1. Borhanuddinofficial6@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  2. admin@iqbalahmed.info : Iqbalahmed :
বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়া পরিবারের অকৃতজ্ঞতা ও স্বার্থপরতার গল্প।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়া পরিবারের অকৃতজ্ঞতা ও স্বার্থপরতার গল্প।

ইকবাল আহমেদ লিটনঃ মেজর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় কিভাবে এসেছে ইতিহাস স্বাক্ষী দিবে? হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কিভাবে ক্ষমতা এসেছে ইতিহাস স্বাক্ষী দিবে? খালেদা জিয়া কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে ইতিহাস স্বাক্ষী দিবে? আর কতো পচাঁত্তরের রনাঙ্গন দেখতে হবে আমাদের? খাল কেটে রাস্তা বানাইছেন জিয়া সাহেব আর এই খাল কেটে রক্তের স্রোত বহিয়া পাকিদের বীজ স্টিমার করে এনেছেন বাংলার বুকে। এখনো সেই বীজ বাংলার বুকে বাসা বেধেঁ আছে অলিতে-গলিতে।

কয়েক বছর আগে দেখলাম ড. মুহাম্মদ ইউনুস সাহেবকে হিলারির সাথে দালালি করতেছে। বাংলার মাটিকে সুদযুক্ত করে হাজার হাজার কোটি টাকা ছিনিয়ে নেওয়া পাকিদের বীজকে এখন বাংলার খেটে খাওয়া মানুষ এখন পথের ভিখারীও হতে হয়। কিছুদিন আগে খালেদা জিয়ার পূত্র তারেক রহমানকে দেখলাম কয়েকদিন খুব বিদেশ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দেশের মানুষের খবর নিচ্ছে, আমার মাথায় একটু আসলো না এই বাংলার মানুষ কেমন নিমোক হারাম যারা ক্ষমতায় বসে আমার আপনার কোটি কোটি টাকা আত্মৎসাত করে সুইচ ব্যাংক, লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংকে জব্দ রেখেছেন তারা আবার কি করে বাংলাকে সোনার বাংলায় পরিনত করবে?

যারা ক্ষমতা আসন গ্রহন করে পাচঁ পাঁচ বার দূর্নীতিতে সেরা উপাধী পেয়েছেন তারা আবার দেশের মমতা বুঝবেন কি করে? তারেক রহমান সাহেব আপনি তো বাংলাদেশের আদালতে একজন আসামী তাহলে কিভাবে আপনি দেশের স্বার্থে কথা বলেন? দেশকে যদি ভালোই বাসতেন তাহলে এদেশের মাটিতে ঠাইঁ রেখে সংগ্রামে নামুন। মাঝেমধ্যে ভাবি একজন শিক্ষিত মানুষ কেন, কি কারণে ‘অশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া পরিবারের’ নেতৃত্বে রাজনীতি করে? অর্থাৎ বিএনপি করে। দীর্ঘদিন এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি। খুঁজতে খুঁজতে এবং কিছু শিক্ষিত মানুষকে দেখে দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কেবল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণেই তারা বিএনপি করে। তাদের মধ্যে পাকিস্তানপ্রেম আছে, পাকিস্তানী মিলিটারি জান্তাকে পরাভূত করে বাংলাদেশ বানানোর জ্বলন আছে, স্বাধীনতার বিরোধিতাও করতে পারছে না প্রকাশ্যে। সে কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতার আড়ালে মূলত স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য বিএনপির ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, ড. ওসমান ফারুক, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এদের আর যাই বলা হোক অশিক্ষিত বলার কোন সুযোগ নেই। তারা শিক্ষিত নন এমন কথা তাঁদের চরম শত্রুও বলবে না। কিন্তু তারপরও তারা বিএনপি করছেন। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে লো-প্রোফাইলে। আরেকটি সম্প্রদায় আছে যাদের বাপ-চাচা রাজাকার ছিল (যেমন রাজাকার চখা মিয়ার পুত্র মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর), ছেলে রাজাকারের সন্তান বলে নিজের পরিচয় দিতে লজ্জা পাচ্ছে অথচ পাকিস্তানপ্রেম আছে, তাই বিএনপি’র ছাতাই একমাত্র আশ্রয়স্থল। আরেকটি গ্রুপ আছে যাদের শিক্ষাই হলো ভারত বিরোধিতা। এরা আওয়ামী লীগকে প্রো-ভারতের জায়গায় দাঁড় করিয়ে বিএনপিই তাদের মূল ঠিকানা মনে করে সুখ পায়। লেখার শুরুতে আমি ‘অশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া পরিবার’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছি। নইলে যে মানুষটি বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, যে মানুষ জাতির আজন্ম স্বপ্ন-সাধ, আপন জাতি-রাষ্ট্র পিতা, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে, তাঁর আজীবন সংগ্রাম এবং দেশপ্রেম নিয়ে যে অর্বাচীন প্রশ্ন তোলে, তাকে উন্মাদ বলা হবে না মাতাল বলা হবে, তারচেয়েও বড় কথা হলো সে একটা গণ্ডমূর্খ তার মায়ের মতোই। সেই উন্মাদের নাম হলো তারেক রহমান- অর্ধশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। এই সন্তানের নামে তার মায়ের মতোই অনেক মুখরোচক কাহিনী আছে। এই গুণধর সন্তান শুনেছি সেন্ট জোসেফ স্কুল বা শাহীন স্কুল ডিঙ্গাতে পারছিল না বলে ঢাকার বাইরে কোন এক অখ্যাত স্কুল থেকে কোনরকমে ম্যাট্রিক পাস করেছে (তাও বাইরে থেকে খাতা সাপ্লাই), এরপর কোথায় লেখাপড়া করেছে কেউ জানে না। যেমন তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা কেউ বলে ‘৬ সাবজেক্ট ফেল ম্যাট্রিক পাস’ আবার কেউ দাবি করে কিছুদিন কলেজেও পড়েছেন? তবে মা-বেটার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যেভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে তার প্রভাব পড়েছে দলে। যে কারণে মীর্জা ফখরুল, রিজভী বা গয়েশ্বর বাবুরা যত কথা বলেন তার বেশিরভাগই মিথ্যে বলেন। মনে হয় তারা মিথ্যের কারখানা থেকে বেরিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তারেক রহমান তার মায়ের মতো স্কুল-কলেজ পার হতে না পারলেও দুর্নীতির সূচকে চ্যাম্পিয়ন। নানান দুর্নীতি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন কর্মকাণ্ডের দায় মাথায় নিয়ে পলাতক আসামি হিসেবে লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। এই কীর্তিমানের আরও কিছু কীর্তি তুলে ধরছি। ১. আশির দশকে ধানমন্ডি থানায় কিছু সময়ের জন্য যেতে হয়েছিল। সে সময়কার থানার ওসির (নাম বললাম না) মুখে শুনেছি ডব্লিউ+ডব্লিউসহ ধরা পড়েছিল। পরিচয় দেয়ার পর ওসি তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে নিয়ে মা খালেদার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে ছেলেকে কন্ট্রোল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ২. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “একদিন ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে দেখি মেজর সাহেব (জিয়া) এক বালককে বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলেছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন খালেদা জিয়া। তিনি কিছু বলছেন না। ছোট্ট বালককে কেন মারছেন বলতেই জিয়াউর রহমান বললেন, আরে ভাই বলবেন না, তার কুকর্মের জন্য শাহীন স্কুল থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। মেয়েদের সঙ্গে যত সব কুকর্ম করে বেড়ায়। এই সেই তারেক রহমান মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছে, ৩. একজন সিনিয়র ডাক্তারের মুখে শুনেছি তারেক যাকে বিয়ে করেছে এবং এখন লন্ডনে আছে, সে খুব ভাল মেয়ে ছিল। তারেক তাকে জবরদস্তি বিয়ে করেছে ক্ষমতার দাপটে। এই তারেক লেখাপড়ায় ‘আদু ভাই’ হলে কি হবে বৈষয়িক বুদ্ধিতে টনটনা, ৪. এরশাদের সময় শোনা গেছে মাত্র তিন দিনে একটি শিল্প ঋণ পাস করিয়ে টাকা তুলে নিয়েছিল। ব্যারিস্টার মওদুদ তখন এরশাদের মন্ত্রী ছিলেন, ৫. তারপর টাকা তোলার এবং রাখার জন্য হাওয়া ভবন গড়ে তোলা, ৬. ফুর্তি করার জন্য খোয়াব ভবন, ৭. ৪৮ স্যুটকেস নিয়ে মার সঙ্গে সৌদি আরব গমন (তখন এটি মুখরোচক খবর ছিল যে, ওই স্যুটকেসগুলো বিদেশী মুদ্রা ভর্তি ছিল)। আর এখন তো লন্ডনের এক অভিজাত এলাকায় বসবাস।” গাফ্ফার চৌধুরী বুধবার আরও বলেছেন- “এক সময় হাওয়া ভবন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা বা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন হাওয়া ভবন নেই, মায়ের সঙ্গে দেখা হয় না, অর্থসম্পদও শেষ হয়ে আসছে… মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছে, দেশে এসে মামলা ফেস করার মতো সাহসও নেই। তাকে নিয়ে বলার কিছু নেই।”
এই সেই তারেক রহমান যে লন্ডনে বসে লোক ভাড়া করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেআদবি করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।

যাইহোক, সাহেব আমরা সব বুঝি ভাইয়ের কবরে এক মুঠো মাটি দিতে আসলেন না কেমন বীর আপনি? যেই জিয়া আপনার মাকে মেনে নেয়নি সেই সময় আপনার মায়ের পাশে আমাদের জাতির পিতাই ছিলেন, দুঃখ পেয়ে বঙ্গবন্ধু এটাও বলেছিলেন; শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার মতো খালেদাও আমার মেয়ে! নরপশুর পরিচয় আপনারা আর কতো দিবেন? যদি বাংলাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন তাহলে এদেশের মাটিতে বসে স্বপ্ন দেখেন, অন্য দেশে বসে নয়! মনে রাখবেন; বঙ্গবন্ধু বিশ্বনেতা, শুধু দেশের অহংকার নয়, বিশ্বের অহংকার!!

স্বপ্ন জীবনের চাইতেও বিশাল বড় যেই স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছেন, সেই স্বপ্ন এখন তার কন্যা দেখেন এমন কি বাস্তবে রুপ দিচ্ছেন প্রতিটি স্বপ্নকে।

সবশেষে বলি, আমি দূর্নীতি চাই না, আমি স্বজনপ্রীতি চাই না, আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী হয়ে বেচেঁ থাকতে চাই, আমি সোনার বাংলা গড়ে তোলার নেত্রীর পাশে থাকতে চাই।।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা,সদস্য সচিব- আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ।