1. Borhanuddinofficial6@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  2. admin@iqbalahmed.info : Iqbalahmed :
অপরাজনীতির বাহকদের দমন করা যাবে কি?
অপরাজনীতির বাহকদের দমন করা যাবে কি?

ইকবাল আহমেদ লিটন: আমার কাছে মনে হয়, রাজনীতি একটা আবেগের জায়গা। আবেগ দিয়ে পৃথিবী না চললেও রাজনীতি করার প্রথম শর্ত থাকা উচিৎ আবেগ আর বিবেক দিয়ে। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি যাদের আবেগ নাই তাদের জন্য রাজনীতি নয়। কারন আবেগের তাড়নায়’ই ভালবাসার জন্ম নেয় আর ভালবাসা ব্যাতিত রাজনীতির কি মানে আমি অন্তত বুঝি না। যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিঃস্কার হওয়া পাপিয়া ধরা পরেছে বলে সবাই তার দোষ দিচ্ছেন আমিও তার পক্ষে নই আমিও তার বিপক্ষে। তবে সে যদি ধরা না পরতো তবে কি কেউ তার দোষ বলার সাহস পেতো? শুধু পাপিয়া নয়, কোন বিভাগে, কোন জেলায়, কোন উপজেলায় এমন পাপিয়া নেই সেটা বলুন? আপনার অজান্তে, আপনার চোখের আড়ালে আবডালে তারা চালাচ্ছে দুই নাম্বারী কর্মকাণ্ড। দল ভারি করার জন্য এবং নিজেদের নোংরা মন মানসিকতা ব্যবহারের কারনে যে সব উচ্চ পদস্থধারী নেতারা অসাধু মানুষগুলোকে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করে দেয়, একমাত্র এদের কারনে আওয়ামী লীগ একদিন চরম বিপদে পড়বে এবং এদের কারনেই বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন। এখন থেকে এইসব দেখা উচিৎ। তবে যেদিন রাজনীতি থেকে দখলবাজি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট করে টাকা উপার্জন করা বন্ধ হয়ে যাবে, সেদিন থেকে ৫০ ভাগ নেতা রাজনীতি ছেড়ে কাজে মন দেবে আর ঠিক সেইদিন থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। শেখ হাসিনা একা সৎ হয়ে লাভ কি? বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করতে হয়, ১৯৭০ সালের বন্যায় কবলিত সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জন্য বহির্বিশ্ব থেকে ত্রাণ ও তহবিলের সাড়ে সাত কোটি কম্বল এনেও তিনি একখানা কম্বলও পাননি। তিনি বলে গেছেন, দেশ স্বাধীন করে মানুষ পেয়েছে সোনার খনি আর আমি পেলাম চোরের খনি। তাহলে আমরা কি পারবো না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে? শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন বাংলাদেশ হইতে জঙ্গী, মদ ও গাঁজা সেবনকারী ও গডফাদারদের’কে দমন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাহলে দখলবাজি ও চাঁদাবাজদের, দেহ ব্যবসায়ীদের সহ লুটেরাদেরকে দমন করা যাবে কি? একটা জিনিস লক্ষণীয়, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন রাষ্ট্রের টাকা নিজের মনে করে লুটপাট করে খাওয়া এটা এখন ফ্যাশনে পরিণতি হয়েছে প্রিয় স্বদেশে। জাতি এর থেকে পরিত্রাণ চাই।

যাইহোক: দেহ ব্যবসা, মদ, জুয়া ও লুটপাট সহ রাস্তায় কোপাকুপি, মারামারি করিয়া অন্যকে মারিয়া নিজেদের মুজিব আদর্শের সৈনিক বলে দাবী করে। কোথাও দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে গেলেও বঙ্গবন্ধুর নামে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান ধরে। তারা আসলে কি আওয়ামী লীগকে আর বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে? আসলে তারা কি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক? আদৌ কি বঙ্গবন্ধু এমন ছিল? নাকি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এমন ছিলো? আসলে সস্তা রাজনীতির বস্তায় বঙ্গবন্ধুর নামটিও তারা হালকাভাবে নিচ্ছে। হৃদয়ের বঙ্গবন্ধুকে বাজারের ব্যাগের উপর তুলে ধরে কেমন চামচামির খেলাই না চলছে এই দেশে। যদি কোন মৃত ব্যক্তি কথা বলতে পারতো। তবে বঙ্গবন্ধুও চিল্লাইয়া বলতো, ওরে বাটপার “তোরা থাম, তোরা থাম”। আমি এমন বাংলাদেশ চাইনি। আমার স্বপ্ন এটা ছিলোনা। প্রিয় বন্ধুরা, এ রকম অনেক পাপিয়া, জি কে শামীম দলের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে আছে কারন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছেন তাই অনেক আগাছা ও পরগাছা জন্ম নিয়েছে। সেই আগাছা ও পরগাছাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০১৯ সাল ও মুজিববর্ষ থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতির কড়া নির্দেশ কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অপরাধীর কোন দলীয় পরিচয় নেই। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধী। আগাছা ও পরগাছা পরিস্কারের অভিযান চলমান।

তবে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্য কেন। বঙ্গবন্ধু কি জাতিকে নিয়ে বৈষম্যর স্বপ্ন দেখে ছিল। তাহলে আজ কেনো এতো বৈষম্যর শিকার। মনে রাখা উচিৎ যে, “বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এর নেতা হওয়া যতখানি সহজ! নৌকার একজন প্রকৃত ভোটার ও দেশপ্রেমিক হওয়া ঠিক ততখানি কঠিন” এই মুজিব বর্ষে একটাই শপথ হোক বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যর ঠাঁই নাই। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় চাটুকারিতা আর নয়।।

লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব- আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন।