1. Borhanuddinofficial6@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  2. admin@iqbalahmed.info : Iqbalahmed :
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি’র ফলাফল হয় অতিমাত্রায় ভয়াবহ নির্মম আর সাংঘাতিক
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি’র ফলাফল হয় অতিমাত্রায় ভয়াবহ নির্মম আর সাংঘাতিক

ইকবাল আহমেদ লিটন: ধর্ম যখন মন্দির মসজিদ এর ভিতর সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল কিন্তু সাম্প্রদায়িক জঘন্য ব্যক্তিরা সেটাকে বাইরে টেনে নিয়ে এসে রাজনীতির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। মসজিদ ভাঙচুর করে সেখানে হিন্দুত্ববাদের পতাকা উড়ালে কি হিন্দুরা জিতে গেল? নাকি মন্দির ভাঙচুর করে ইসলামের পতাকা উড়ালে মুসলিমরা জিতে যাবে? যাইহোক, তুমি হেরে যাবে আর লক্ষ মানুষের ঘৃণা আর অভিশাপের ভাগিদার হবে এটাই সত্য কথা। মানুষ মেরে, মসজিদ ভেংগে, মন্দির ভেংগে জিতে যায় কিছু নরকীঁটের দল আর হেরে যাই ধর্ম, হেরে যাই মানবতা। এই রক্তাক্ত জয়ের আনন্দ হয় সাময়িক কিন্তু পস্তাতে হয় চিরকাল।

আজ মামুনুল হকের সাহেবের “সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করার” পক্ষে যুক্তি শুনলাম। উনার যে কোনটা সত্য, আর কোনটা “সীমিত পরিসরে গোপন করা সত্য” সে বিচার নিশ্চয়ই দেশের মানুষ করবেন। কিন্তু সাধারাণ বিবেচনায়, চলতি ঘটনায় মামুনুল হকের কয়েকটি স্পষ্ট অপরাধ জনমনাসে ক্ষমার অযোগ্য হয়ে রইবে।

মামুনুল হক সাহেবের নিরঙ্কুশ অপরাধ কোথায়?

প্রথমত: হক সাহেব রিসোর্টের কার্ড রেজিস্টারে তার সঙ্গীয় নারীর যে নাম লিখেছেন তা তার সঙ্গীর প্রকৃত নাম ছিল না। এই ‘গোপনীয়তা’ চর্চা যে কোনো বিবেচনায় অপরাধ।

দ্বিতীয়ত: তিনি তার নারী সঙ্গীর যে নাম ব্যবহার করেছেন তা তার প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর নাম। নিজের প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর নাম ভাড়িয়ে অন্য একজন নারীকে উনি সঙ্গে নিয়ে হোটেলে উঠেছেন। এই আচরণ এক দিকে মানসিক বিকৃতির পরিচায়ক, অন্য দিকে ভয়ানক অপরাধপ্রবণতার প্রমাণ। উনি নাম ভাড়িয়ে, বোরকা বা আবেয়া আবৃত ভিন্ন এক নারীকে হোটেল ঢুকিয়ে ভয়ানক নাশকতা করার পথ বাতলে দিয়েছেন।

তৃতীয়ত: হক সাহেব তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্ত্রী, যিনি কোনোভাবেই এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নন, তাঁকে ভয়ানক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। তার রিসোর্টসঙ্গীর সম্ভাব্য সব রকম ভুলভ্রান্তি-অপরাধ-অপকর্ম হক সাহেব তার প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর নামে চালিয়ে দেওয়ার বা চালিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করে প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর সাথে বিপদজনক বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

চতুর্থত: আরও ভয়ানক হচ্ছে, উনি যে সীমিত পরিসরে মিথ্যাচার করেছেন, সেই মিথ্যাচারের কথা স্পষ্ট ও সরল ভাষায় স্বীকার না করে ঘটনার পর পরই এমন এক লাইভ অনুষ্ঠান করেছিলেন যেখানে তার অত্যন্ত মর্যাদাবান খানদানের মুরুব্বিদের সামিল করেছেন এবং তার পরিবারের মুরুব্বিদের বিরাট অংশ সজ্ঞানে তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে মামুনুল হকের “সীমিত পরিসরের সত্যগোপনকে” বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটি যে কোনো বিবেচনায় একটি পরিবারের সংঘবদ্ধভাবে অপকর্মের সামার্থক। হক সাহেব এবং সেদিন লাইভ অনুষ্ঠানে উনার সাথে উপস্থিত উনার খানদানের অনেকেই তাদের ভক্ত, অনুগত ও অনুরাগীদের প্রতারিত করেছেন।

রিসোর্টে মামুনুল হকের সাথে যা ঘটেছে তা ঘোরতর অন্যায়। কোনো সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন ঘটনা কল্পনা করা যায় না।
একইভাবে, নিজের প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর নামে ভিন্ন এক নারীর পরিচয় তৈরি করা এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করা কোনোভাবেই সভ্য মানুষ সমর্থন করতে পারে না।
আমি জানি, ধর্ম নিয়ে বলতে বসলে হয় আমি কুখ্যাত, নয়তো বিখ্যাত হয়ে উঠবো। কারণ মানুষ নিজের প্রাণের চেয়ে ‘বিশ্বাসের’ খেয়াল রাখে বেশি এবং মর্যাদা দেয় বেশি। ধর্ম একটা বিশ্বাস মাত্র। সেটা এখন বেশ কয়েকটা ভাগ হয়ে উগ্র বিশ্বাস, অবিশ্বাস, সাতেপাঁচে নেই নিজের ভিতরে নিজের মতো করে পালন করলে বা মানলেই হলো এক শ্রেণীর বিশ্বাস। ব্যক্তিগতভাবে আমি কিন্তু মুসলিম তাই বলে একজন বিধর্মী মানুষকে কটুক্তি ও অবমাননা করবো এটা হতে পারেনা। আজকাল উপমহাদেশ গুলোতেই দেখি ধর্ম নিয়ে ভীষণ বাড়াবাড়ি। কোন বিষয়ে কেও যদি একমত না হয় তাকে গালাগালি করা, জোর করে চাপিয়ে দিয়ে মানানোর অপপ্রয়াস চলে। সত্যিকারের ধর্ম কি এই শিক্ষা দেয়? মনে তো হয় না। নুসরাত হত্যা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, শুধু আরবী ঘরে বসেও শেখা যাই। নিজের সন্তানকে কিছু যদি বানাতে হয় তবে শুধু আরবি শিখিয়ে সন্তানের ল্যাজ ধরে বেহেস্ত যাবার কথা না ভেবে তাঁদেরকে ডাক্তার, আমলা, বড় বড় পুলিশ অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, ফরেন সার্ভিস অফিসার, বিজ্ঞানী বানান। কারণ যে জাতির হাতে শিক্ষা, ক্ষমতা এবং অর্থ আছে সেই জাতিই নিজের সবকিছু সঠিকভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এতে একজন চটে গিয়ে আমায় আল্লাহ্ তায়ালার ভয় নেই, বেহেস্ত চাই না বলা অপরাধ শুনিয়ে এবং শেষে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তেনাকে খুশি করতে পারি নি।

আজকাল দেখি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনলাইন খবরের নিচে কমেন্টকারীরা হিন্দু ও মুসলিম পরস্পরকে তোড়ে দোষারোপ এবং গালি দিয়ে চলেছেন। আবার পাশের দেশ ভারতে কতিপয় উগ্রহিন্দুরা অর্থাৎ মোদীর সমর্থকেরা মুসলিমদের কতভাবে শ্রাদ্ধ করা যাই গালি, মসজিদ ভাঙচুর সহ হত্যা করা যাই সে কথা বলতে পাশের বাংলাদেশের কথা তুলে আনেন এবং হিন্দু নির্যাতনের কথা বলেন কিন্তু ওরা জানেনা যে বঙ্গবন্ধুর দেশ সাম্প্রতিক না বরং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। পাশের দেশের সব মুসলিম যে ভীষণ ভালো সেটা বলবো না। সেখানেও উগ্র নষ্ট ধর্মবাদের চাষ দেখি। তবে পরস্পরের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্যসার সমাধান না করে কার দোষ সেটা খুঁজতে গিয়ে এই কাদাছোড়াছুড়ি দোষারোপ নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। বিষয়টা যেন আমরা পূর্ব দিকে মুখ করে হাগলে তবে ওদের পশ্চিমদিকে মুখ করেই হাগতে হবে টাইপ। তাতে যতই আমাদের প্যান্টের মুখ দক্ষিণে ঘোরানো থাক না কেন?

আবার কিছু উগ্র হিন্দু আছে তাদের অনেক কমেন্টে দেখি অনেকেই বলে কোরআন নাকি যতো নষ্টের গোড়া। এটা পড়েই মুসলিমরা জঙ্গি হয়ে যাই। এই জাঙ্গিয়া টাইপ অযৌক্তিক কথা শুনলে ভীষণ বিরক্ত লাগে। এই পুরো বিশ্বে মোট কত মুসলিম এবং জঙ্গি কতজন? কোরআন যদি মুসলিমদের জঙ্গি বানায় তবে তো সব মুসলিমরা জঙ্গি হয়ে যেতো, সেটা তো হয় নি। তবে এই যে উপমহাদেশের প্রধান দুটো ধর্ম নিয়ে এতো আচকাআচকি খেলা তাতে দুঃখ লাগে। দুঃখ লাগে কিছু ক্ষেত্রে যাঁরা ইসলাম রাষ্ট্র চাই বলে লাফায় তাঁরা প্রকৃত ইসলাম বোঝে না এবং যাঁরা হিন্দু রাম রাষ্ট্র চাই বলে লাফায় তাঁরা অর্ধেক ঠিক করে রামায়ণ জানে না, তবুও এরা রাষ্ট্র চাই। তবে সত্যি বলতে, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভারতকে অস্থির করে তুলতে মোদি একাই যথেষ্ট। যাইহোক, মোদি মৌলবাদী হিন্দু হলেও, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্যই চরম ক্ষতিকারক, এমনকি হিন্দু মৌলবাদীদের জন্যও ক্ষতিকারক।

শেষ কথা: বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সব বাঙালির জন্য। পক্ষান্তরে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো সাম্প্রদায়িক নয়। বঙ্গবন্ধুর সম্প্রীতির দেশে ধর্ম আর বিশ্বাস না হয় আপন আপন বুকের ভিতরেই থাক। অন্যের ঘাড়ে জোর করে চাপানোর চেয়ে।

লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন